বাউল মতের প্রতি শিক্ষিত মহলকে উৎসুক করে তোলেন কে ?

Updated: 8 months ago
  • লালন ফকির
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • মাধব বিবি
  • ফরিদা পারভীন
2.9k
ব্যাখ্যাঃ

কিছু মানুষের ধারনা হতেই পারে যে লালন শাহের হাতেই বাউল দর্শন ও বাউল গীতির উদ্ভব। কিন্তু বাউল মতের উত্থানের প্রকৃত ইতিহাস আরও অনেক পুরনো।
মানব জীবন প্রকৃতি ও এর প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা দীর্ঘকাল ধরেই চলে এসেছে। কিন্তু একটা পর্যায়ে গিয়ে মানুষের চেয়ে মানুষের ধর্মের, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের, ধর্মগ্রন্থের এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মূল্য অনেক বেরে যায়। এসব মূখ্য হয়ে দেখা দিতে থাকে মানব হয়ে উঠতে থাকে গৌণ। বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন সময়ে এই পরিস্থিতির বিপরীতে সরব হয়েছেন একদল ব্যক্তি। সমাজের স্বাভাবিক ধর্ম কেন্দ্রিক ধারার বাহিরে এই ধরনের ব্যক্তিবর্গ গড়ে তোলেন একটি মানুষ প্রধান দর্শনের ধারা। এটি এমনই একটি ধারা যাতে প্রচলিত ধর্মীয় চিন্তাধারার বাহিরে প্রাধান্য পায়, মানব মন, মানব চেতনা, মানব সত্তা, মানব জনমের কারণ ও উদ্দেশ্য, এক কথায় পুরো মানুষ। সময়ের পরিক্রমায় তাদের একাধিক ধারা সহজিয়া সাধকদের ন্যায় দেহবাদী চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে ওঠে। তবে তাদের জীবনধারা সমাজের মূলধারার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় সকল দেশে সকল কালেই তারা ছিলেন একটি সমান্তরাল সমাজ। এরকমই একটি তত্ত্বের ধারা হলো আমাদের বাউল মত।
খ্রিস্টীয় অষ্টম-নবম শতকে পারস্যে এরকম একটি শ্রেণির সন্ধান পাওয়া যায় যারা মূল বসতি ছেড়ে মরুর বুকে ঘুরে বেড়তো এবং নিজেদের আদর্শ প্রচারে গান রচনা ও পরিবেশন করতো। ঐতিহাসিক তথ্যমতে এদের বা'আল বলা হতো। অনেকের মতে এই বা'আল শব্দ থেকেই 'বাউল' শব্দের উৎপত্তি।
আবার অনেকে মনে করে থাকেন, এই শ্রেণির মানুষের জীবন যাপনের ধারা মূলধারার থেকে ভিন্ন হওয়ায় তাদের 'বাতুল' বলা হতো। তাদের মতে এই 'বাতুল' শব্দ থেকেই 'বাউল' শব্দের উৎপত্তি।
এদের এই নামের উৎপত্তি নিয়ে আরও অনেক মতবাদ প্রচলিত রয়েছে৷ কিন্তু নামকরণের কারণ যাই হোক না কেনো, এটি এরা সব সময় সমাজের মূলস্রোতের বাহিরে একটি চোরা স্রোতের মতোই বয়ে চলেছে। এবার প্রশ্ন বাংলায় এই নিভৃতে বিচরণকারী মতের প্রতি মূল ধারার শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে আগ্রহী করে তুলেছিলেন কে?
মনে রাখতে হবে এই ক্ষেত্রে এক নয় অনেকের অবদান রয়েছে। লালন শাহ নিঃসন্দেহে এই ক্ষেত্রে প্রথম প্রভাবশালী ব্যক্তি। তার সময়ে বাউল মতবাদ লালনগীতি রূপে বাউল দর্শন এতোটাই প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয় যে, এই আদর্শের অনুসারীদের পাশাপাশি সাহিত্য ও দর্শন সচেতন অনেক মানুষই এর প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। লালনের গানগুলোর অন্তরালের বার্তা এতোটাই শক্তিশালী ছিলো যে তার টানে ছেউড়িয়ার আখড়ায় ছুটে যান মীর মশাররফ হোসেন ও কাঙাল হরিনাথ। তাকে সাথে সময় কাটান জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। এসব বিষয় থেকে শিক্ষিত সমাজের মধ্যে বাউল মতের প্রতি আগ্রহের বিষয়টির প্রমাণ মিললেও তা ছিলো একেবারেই প্রারম্ভিক পর্যায়। কারণ হিসেবে মনে রাখতে হবে যে, ব্রাহ্মণ্য প্রভাব বলয়ের হিন্দু শিক্ষিত সমাজে এবং মুসলিমদের মাঝেও লালন ফকির অনেকাংশেই ধর্মকে অমান্য করা একজন মানুষ হিসেবেই বিবেচিত হতেন। তাই তিনি তার আদর্শ ও সঙ্গীতের দ্বারা কিছু মানুষকে আগ্রহী করে তুলতে পারলেও তাঁর জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর কিছুকাল পরেও সেটি ব্যাপক রূপ লাভ করেনি।
এরপরে মীর মশাররফ হোসেনের প্রয়াসে, কাঙ্গাল হরিনাথের 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র প্রচারে বাউল মত সম্পর্কে শিক্ষিত সমাজ জানার সুযোগ লাভ করে। এরপরেই আসে এক বড় প্রভাব। বেশ কিছুটা পূর্বে বাংলা সাহিত্যে প্রবেশ করলেও বিংশ শতকের শুরুর পর্যায়ে নোবেল পুরস্কার লাভ করলে রবীন্দ্রনাথের গ্রহণযোগ্যতা অত্যুচ্চ পর্যায়ে চলে যায়। সেই রবীন্দ্রনাথ বাউল মত দ্বারা কিছু অংশে প্রভাবিত হয়েছিলেন। এরমধ্যে বাউলগীতিই রবীন্দ্রনাথকে সর্বাধিক টেনেছিলো। এর প্রমাণ আমরা পাই তখন, যখন রবীন্দ্রনাথের অনেক গানের সুর তিনি করেন বাউল গানের আদলে।
যেমন আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের সুর তিনি নিয়েছেন গগন হরকরার 'আমি কোথায় পাবো তারে, আমার মনের মানুষ যে রে' গান থেকে। আপনাদের বোঝার সুবিধার্থে গানটির একটি লিংক কমেনেটে যুক্ত করছি।
রবীন্দ্রভাবনা, চিন্তা ও আলোচনায় বাউল প্রসঙ্গ নানা ভাবে এসেছে। মূলত শিলাইদহের বাউল সম্প্রদায়ের প্রেরণা ও প্রভাবেই তিনি রূপান্তরিত হয়েছেন ‘রবীন্দ্রবাউলে’। তাঁর শিল্পকর্ম পোষাক পরিচ্ছদ, ধর্মদর্শন চিন্তায় বাউল ভাবের পরিচয় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয় । অঞ্চল বিশেষে বাউল সম্প্রদায়ের  ভাবধারা, তাদের আধার, তাদের গানকে তিনি তার প্রবন্ধে, নাটকে, নৃত্যে ও সর্বোপরি দার্শনিকতায় বার বার বিভিন্নভাবে ধরার চেষ্টা করেছেন।
ধর্মের বিষয়ে 'মানব ধর্ম' গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের যে প্রকাশ তাতেও কিছুকিছু ক্ষেত্রে বাউল দর্শন দ্বারা প্রভাবিত। তাইতো আমরা তাকে বলতে শুনি:
'আমার ধর্ম কী, তা যে আজও আমি সম্পূ্র্ণ এবং স্পষ্ট করে জানি এমন কথা বলতে পারিনে – অনুশাসন আকারে তত্ত্ব আকারে কোন পুঁথিতে লেখা ধর্ম সে তো নয়।'
অন্যভাবে এই কথারই প্রতিধ্বনি পাওয়া যায় লালনের গানে –
'সব লোকে কয় লালন ফকির হিন্দু কি যবন,
লালন বলে আমার আমি না জানি সন্ধান'
শিলাইদহে বসবাসকালে  গুরুদেব বাউল মতের গভীরতা উপলব্ধি করতে পারেন। তাইতো সাধক হিসেবে রবীন্দ্রনাথ নিজেকে বসিয়েছেন বাউলের পাশে –
কবি আমি ওদের দলে
আমি বাত্য আমি মন্ত্রহীন।
এভাবে রবীন্দ্রনাথই বস্তুত পরিশীলিত  সাহিত্য – জগতে ও সাহিত্য সচেতন শিক্ষিত সমাজে বাউলকে সশ্রদ্ধ স্বীকৃতি দেন গান সংগ্রহ করে, নিজের সংগীত সষ্টিতে তার ঋণ গ্রহণ করে এবং সর্বোপরি বিশ্বের দরবারে বাউলকে পরিচিত করে।  
এর প্রভাব কী হয়? নিজের জীবদ্দশাতেই রবীন্দ্রনাথ বাঙালি শিক্ষিত ও সাহিত্যানুরাগী সমাজে নিজের প্রতি একটি আকর্ষণ ও মনোযোগ সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই বাউল মত রবীন্দ্রনাথের আগ্রহ একসময় শিক্ষিত শ্রেণির একটি উল্লেখযোগ্য অংশের আগ্রহে পরিণত হয় এবং বাঙালি শিক্ষিত সমাজ বাউল মতের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে।

সুতরাং এই প্রশ্নের  নির্দ্বিধায় 'রবীন্দ্রনাথ' ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাদাকালো আবক্ষ আলোকচিত্র

বিবিসির জরিপে (২০০৪) সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালির তালিকায় ২য় স্থান প্রাপ্ত নোবেল জয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা, সব্যসাচী লেখক, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, সঙ্গীত রচয়িতা, সুরস্রষ্টা, গায়ক, চিত্রশিল্পী, অভিনেতা, সমাজসেবী, শিক্ষাবিদ, গ্রামীণ ক্ষুদ্রঋণ ও গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পের পথিকৃৎ। ১৯৩০ সালে জার্মানিতে আইনস্টাইনের সাথে সাক্ষাৎ হয়। সাক্ষাতে তিনি দর্শন, মানুষ ও বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করেন।

রবীন্দ্রনাথের পরিবারটি পিরালি ব্রাহ্মণ [বিধর্মীদের সংস্পর্শে এসে জাত হারানো ব্রাহ্মণরা হলেন পিরালি ব্রাহ্মণ]। (পারিবারিক উপাধি কুশারি)। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্বপুরুষ জগন্নাথ কুশারি পিরালি ব্রাহ্মণ মেয়ে বিয়ে করলে হিন্দু ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয় এবং সমাজচ্যুত করা হয়। তার ছেলে পঞ্চানন কুশারি ১৮ শতকের শুরুতে খুলনার দক্ষিণড়িতি থেকে কলকাতার গোবিন্দপুরে এসে জেলে পাড়ার পুরোহিতের কাজ করা শুরু করেন। ফলে অনেকে ঠাকুর বলে ডাকেন। এছাড়াও ইংরেজদের বাণিজ্য তরীতে দ্রব্য উঠা-নামার কাজ করলে ইংরেজরাও তাকে ঠাকুর বলে ডাকতেন। তারই উত্তর প্রজন্ম দ্বারকানাথ ঠাকুর ইংরেজনে কাছ থেকে অর্থের পাশাপাশি 'প্রিন্স' উপাধি লাভ করেন ক্রমান্বয়ে শত বছরের ব্যবধানে জেলে সম্প্রদায়ের পুরোহিত থেকে কলকাতার প্রভাবশালী পরিবারে পরিণত হয়।

ঠাকুর পরিবারে জমিদারি ছিল বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার শিলাইদহ, সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর ও নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার কালিগ্রাম নামক তিনটি জমিদারি ছিল জোড়াসাঁকোর ঠাকুন পরিবারের। এর মধ্যে উত্তরাধিকার সূত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কালিগ্রাম জমিদারির দায়িত্ব পান। ১৩ জুন, ১৮৯১ সালে তিনি জমিদারি দেখাশোনার জন্য কালিগ্রামে প্রথম আসেন ২৭ জুলাই, ১৯৩৭ সালে তিনি শেষবার কালিগ্রামে আসেন এবং কালিগ্রাম ইউনিয়নের পতিসরে অবস্থিত তার পুত্রের নামে 'কালিগ্রাম রথীন্দ্রনাথ ইনস্টিটিউশন' নামক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নোবেল পুরস্কারের অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেন।

  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৭ মে, ১৮৬১ সালে (২৫ বৈশাখ, ১২৬৮ বঙ্গাব্দ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মশতবার্ষিকী পালিত হয় ১৯৬১ সালে।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ: প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর; পিতামহি: দিগম্বরী দেবী; পিতা: দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর; মাতা: সারদা দেবী। তিনি পিতা-মাতার ১৫জন সন্তানের মধ্যে ১৪তম সন্তান এবং ৮ম পুত্র। রবীন্দ্রনাথের বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ফারসি কবি হাফিজ ও শেখ সাদীর অনুরাগী ছিলেন।
  • তিনি ৯ ডিসেম্বর, ১৮৮৩ সালে ঠাকুরবাড়ীর অধস্তন কর্মচারী বেণীমাধব রায় চৌধুরীর কন্যা ভবতারিণী দেবীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর রবীন্দ্রনাথ নাম রাখেন মৃণালিনী দেবী। স্ত্রী ভবতারিণী দেবী খুলনার দক্ষিণডিহি গ্রামের মেয়ে।
  • তিনি 'সাধনা' (১৮৯৪), 'ভারতী' (১৮৯৮), 'বঙ্গদর্শন' (১৯০১), 'তত্ত্ববোধিনী' (১৯১১) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
  • সাহিত্যিক জীবনের শুরুতে তিনি বিহারীলাল চক্রবর্তীর অনুসারী ছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর সাহিত্যে মধ্যযুগীয় বৈষ্ণব পদাবলি, উপনিষদ, দোঁহাবলি, লালনের বাউল গান ও রামপ্রসাদ সেনের শাক্ত পদাবলির প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
  • তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য সংকলনের নাম 'সঞ্চয়িতা'।
  • হিন্দু-মুসলমান মিলনের লক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ 'রাখিবন্ধন' উৎসবের সূচনা করেন।
  • ব্রিটিশ সরকার ৩ জুন, ১৯১৫ সালে রবীন্দ্রনাথকে 'নাইটহুড' বা 'স্যার' উপাধি প্রদান করেন। পরবর্তীতে ১৩ এপ্রিল, ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তা বর্জন করেন।
  • তিনি ৭ আগস্ট, ১৯৪১ সালে (২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম:

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৯টি ছদ্মনাম পাওয়া যায়। যথাঃ ভানুসিংহ ঠাকুর, অকপট চন্দ্র ভাস্কর, আন্নাকালী পাকড়াশী, ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা, বানীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ, শ্রীমতি কনিষ্ঠা, শ্রীমতি মধ্যমা, দিকশূন্য ভট্টাচার্য, নবীন কিশোর শর্মন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পদক:

ডি. লিট- ১৯১৩ (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়), ডি. লিট- ১৯৩৫ (কাশী বিশ্ববিদ্যালয়), ডি. লিট- ১৯৩৬ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), ডি. লিট- ১৯৪০ (অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপাধি:

গুরুদেব- মহাত্মা গান্ধী, কবিগুরু- ক্ষিতিমোহন সেন, বিশ্বকবি- ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়।

ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০১ সালে শান্তিনিকেতন (বোলপুরে)। পরবর্তীতে এটি ১৯২১ সালে 'বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়' এ রূপান্তরিত হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত রচনাবলি:

প্রথম প্রকাশিত কবিতা

'হিন্দু মেলার উপহার' (২৫/০২/১৮৭৪): তাঁর মাত্র ১৩ বছর বয়সে কবিতাটি অমৃতবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হয় [সূত্র: বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান।]

'অভিলাষ' (১৮৭৪): এটি প্রকাশিত হয় 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকায় (সূত্র: বাংলাপিডিয়া)। তিনি মাত্র ৮ বছর বয়সে কবিতা লেখা শুরু করেছিলেন।

প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ'কবি-কাহিনী' (১৮৭৮), এটি তাঁর ১৭ বছর বয়সে প্রকাশিত হয়। এ কাব্যের কবিতাগুলি 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
প্রথম অপ্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ'পৃথ্বীরাজের পরাজয়'। ১২৭৯ বঙ্গাব্দের ফাল্গুন মাসে রবীন্দ্রনাথ তাঁর বাবার সাথে বোলপুর-শান্তিনিকেতনে যান এবং সেখানেই বীররসাত্মক এ কাব্য রচনা করেন। এ কাব্যটি সম্পর্কে তাঁর 'জীবনস্মৃতি'তে বিস্তারিত পাওয়া যায়।
প্রথম প্রকাশিত কবিতার লাইনমীনগণ দীন হয়ে ছিল সরোবরে / এখন তাহারা সুখে জলে ক্রীড়া করে।
প্রথম প্রকাশিত নাটক'বাল্মীকি প্রতিভা' (১৮৮১), এটি তাঁর গীতিনাট্য। অধিকাংশের মতে, রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত নাটক 'রূদ্রচণ্ড' (১৮৮১)। কিন্তু 'রূদ্রচণ্ড' নাটক নয়, নাটিকা। রবীন্দ্রনাথ নিজেই বাল্মীকির ভূমিকায় অভিনয় করেন।
প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস'বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' (১৮৮৩), এটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। উৎসর্গ করেন সৌদামিনী দেবীকে।
প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প'ভিখারিণী' (১৮৭৭)
প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ'বিবিধপ্রসঙ্গ' (১৮৮৩)
প্রথম প্রকাশিত রচনা সংকলন'চয়নিকা' (১৯০৯)
প্রথম সম্পাদিত পত্রিকা'সাধনা' (১৮৯৪)
সর্বশেষ প্রকাশিত ছোটগল্প'ল্যাবরেটরী' (১৯৪০)
সর্বশেষ রচিত গল্প'মুসলমানীর গল্প'

বনফুল:

'বনফুল' (১৮৮০): এটি রবীন্দ্রনাথ রচিত প্রথম সম্পূর্ণ কাব্য। কিন্তু প্রকাশের দিক দিয়ে দ্বিতীয়। গ্রন্থাগারে প্রকাশিত হওয়ার ৪ বছর পূর্বে অর্থাৎ ১৫ বছর বয়সে রচনা করেন। এ কাব্যের কবিতাগুলি ১৮৭৬ সালেই 'জ্ঞানাঙ্কুর' ও 'প্রতিবিম্ব' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। কিন্তু গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৮৮০ সালে। তাই 'বনফুল'কে প্রথম কাব্যগ্রন্থ বলা যায় না। যদিও অনেকে এটিকে প্রথম কাব্যগ্রন্থ বলে থাকেন কিন্তু তা সঠিক নয়। ৮টি সর্গে বিভক্ত এ কাব্যের কবিতায় বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

  • 'গীতাঞ্জলি' কাব্য ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয় ।
  • গীতাঞ্জলির অনুবাদ Song Offerings নামে ১৯১২ সালে ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশিত হয়।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার পাননি। তিনি ১৯১৩ সালের নভেম্বর মাসে নোবেল পুরস্কার পান 'গীতাঞ্জলি'র ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings এর জন্য। নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির সময় তাঁর বয়স ছিল ৫২ বছর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথম ভারতীয় এবং সাহিত্যে একমাত্র নোবেলজয়ী বাঙালি।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল চুরি হয়ে যায় শান্তি নিকেতন থেকে ২৪ মার্চ, ২০০৪ সালে।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট কাব্যগ্রন্থ ৫৬টি।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট নাটক ২৯টি, কাব্যনাট্য ১৯টি।
  • বাংলা ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
  • রবীন্দ্রনাথের মোট ছোটগল্প ১১৯টি।
  • রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধ গ্রন্থঃ
    'কালান্তর' (১৯৩৭): এটি ভারতবর্ষীয় রাজনৈতিক সমস্যা বিষয়ক বিভিন্ন প্রবন্ধের সংকলন।
    'পঞ্চভূত' (১৮৯৭): এ প্রবন্ধগুলি 'সাধনা' পত্রিকায় 'পঞ্চভূতের ডায়রি' নামে প্রকাশিত হতো। পত্রিকায় প্রকাশের সময় লেখকের নাম ছাপা হতো 'লেখক ভূতনাথ বাবু'।
    'বিচিত্রপ্রবন্ধ' (১৯০৭): এ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত প্রবন্ধ 'লাইব্রেরি'। 'বিবিধ প্রসঙ্গ' (১৮৮৩), 'সাহিত্য' (১৯০৭), 'শিক্ষা' (১৯০৮), 'মানুষের ধর্ম
  • রবীন্দ্রনাথের ভ্রমণকাহিনিঃ
    'য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র (১৮৮১): এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত ভ্রমণকাহিনি। এটি চলিত ভাষায় লিখিত।
    'য়ুরোপ প্রবাসীর ডায়রি' (১৮৯১), 'জাভা যাত্রীর পর (১৯২৯), 'জাপান যাত্রী' (১৯১৯), 'রাশিয়ার চিটিং (১৯৩১), 'পারস্যে' (১৯৩৬)।
  • রবীন্দ্রনাথের ধ্বনিবিজ্ঞানের উপর লেখা গ্রন্থের নাম 'শব্দতত্ত্ব' (১৯০৯)।
  • রবীন্দ্রনাথের বিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থের নাম 'বিশ্বপরিচয়' (১৯৩৭)। এটি সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে উৎসর্গ করেন।
  • রবীন্দ্রনাথের পত্র সংকলনগুলোঃ
    'ছিন্নপত্র' (১৯১২): এতে মোট ১৫১টি পত্র আছে। এর প্রথম ৮টি পত্র শ্রীশচন্দ্র মজুমদারকে এবং ১৪৩টি স ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা।
    'ভানুসিংহের পত্রাবলী': এটি রানু অধিকারীকে লেখেন।
    'পথে ও পথের প্রান্তে': নির্মলকুমারী মহলানবিশকে লেখা ।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিত্রকলাঃ
    ৭০ বছর বয়সের পর তিনি ছবি আঁকা শুরু করেন। তার অঙ্কিত ছবি ও স্কেচের সংখ্যা প্রায় ২০০০টি। নিজের আর ছবিগুলোকে তিনি 'শেষ বয়সের প্রিয়া' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
  • রবীন্দ্রনাথের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের নামঃ 'জীবনস্মৃতি' (১৯১২): এতে রবীন্দ্রনাথের বাল্যকাল থেকে পঁচিশ বছর বয়স পর্যন্ত সময়ের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। 'চরিত্রপূজা' (১৯০৭), 'ছেলেবেলা' (১৯৪০)।
  • রবীন্দ্রনাথের সনেট জাতীয় রচনা বাংলার মাটি বাংলার জল।
  • বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

Related Question

View All
  • হৈমন্তী
  • চারুলতা
  • রায়
  • আশালতা
67
  • হাছন রাজা
  • লালন শাহ
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • কাজী নজরুল ইসলাম
71
Updated: 1 month ago
  • সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  • প্রমথ চৌধুরী
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • টেকচাঁদ ঠাকুর
60
Updated: 2 months ago
  • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • দীনবন্ধু মিত্র
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • প্যারীচাঁদ মিত্র
85
  • বঙ্গসুন্দরী
  • সেঁজুতি
  • প্রেম ও ফুল
  • শেষের কবিতা
78
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই